রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সাংবাদিককে কেন আইন জানতে হয় লেখক:- মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিন মুজিব যুগ্ম মহাসচিব, (বিটিএসএফ) শরীয়তপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে যুবদল নেতা নুর মোহাম্মদ খান ব্যাপক আলোচনায় পেশাজীবি সংগঠন লালমাই প্রেসক্লাবের উদ্যোগ রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত রওনাকে রমজান’ প্রতিযোগিতায় লালমাইয়ের আল ইসরা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সাফল্য ভোট দিয়ে আপনারা আমাকে ঋণী করেছেন, সে ঋণ শোধে কাজ করবো, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া (এমপি) কুমিল্লা-১০ লালমাইয়ে শতবর্ষী স্কুলের এসএসসি ২০১৮ ব্যাচের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সাংবাদিক মুহাম্মদ হারিসুর রহমান সম্পাদক ও প্রকাশক সংবাদ সারাদেশ সরকারি খালের মাটি কাটায় মোবাইল কোর্টের অভিযান, জরিমানা ৫০ হাজার টাকা সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হিসেবে ফাহিমা আক্তার মুকুলকে দেখতে চান শরীয়তপুরের জনগণ কুমিল্লায় অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে প্রেস কাউন্সিলের সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাংবাদিককে কেন আইন জানতে হয় লেখক:- মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিন মুজিব যুগ্ম মহাসচিব, (বিটিএসএফ)

Coder Boss
  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৯৮ Time View

সাংবাদিককে কেন আইন জানতে হয়

লেখক:- মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বিন মুজিব
যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ তৃনমুল সাংবাদিক ফোরাম (বিটিএসএফ)

আইন সম্পর্কে সাংবাদিকদের কেন ধারণা থাকতে হয়, এর মজার একটা উদাহরণ দেই। এই টার্মটার নাম ‘ইন্নোয়েন্ডো’। ইন্নোয়েন্ডো এমন এক ধরনের উক্তি যা সাধারণভাবে মানহানিকর বলে মনে হয় না, অথচ তা মানহানিকার। অর্থাৎ, সাধারণভাবে চিন্তা করলে মানহানিকর মনে হয় না, কিন্তু অন্তর্নিহিত অর্থে মানহানিকর।

‘ক্যাসিডি বনাম ডেইলি মিরর’ মামলার উদাহরণ দিলে সহজে বুঝতে পারবেন। ১৯২৯ সালে ডেইলি মিরর পত্রিকায় “টুডে’স গসিপ” ট্যাগলাইনের এক কলামে মেক্সিকান আর্মির সাবেক জেনারেল ক্যাসিডির সঙ্গে একজন নারীর ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিটির ক্যাপশনে বলা হয়: তারা পরস্পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন। অথচ তারা আগেই আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী।

ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ক্যাসিডির স্ত্রী মানহানির মামলা করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ওই ক্যাপশনের কারণে তার পরিচিতরা মনে করেছে এতদিন তিনি ক্যাসিডিকে বিয়ে না করেই একসাথে থেকেছেন। এতে তার সম্মানহানি হয়েছে। মামলার এজাহারে তিনি ‘ইন্নোয়েন্ডো’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “সাধারণ লোকজন ধারণা করেছে এতদিন আমরা অবৈধভাবে বসবাস করেছি।”

মিসেস ক্যাসিডি মামলায় জয়লাভ করেন। আদালত ডেইলি মিররকে ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করে। তখনকার সময়ে এটি বড় অঙ্কের জরিমানাই ছিল।

তবে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে মানহানি মামলা অনেক ক্ষেত্রে টেকে না। সেক্ষেত্রে সাংবাদিককে এসব প্রমাণ করতে হয়:

১. যদি অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রমাণ করতে পারেন যে, তিনি যা প্রকাশ বা প্রচার করেছেন তা সত্য এবং তা জনস্বার্থে, তবে এটি মানহানি হিসেবে গণ্য হবে না। শুধু সত্যতা প্রমাণ করাই যথেষ্ট নয়, জনস্বার্থও প্রমাণ করতে হয়।

২. যদি কোনো গণমাধ্যমে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে (যেমন: সরকারি কর্মকর্তার আচরণ, কোনো বই বা সিনেমার সমালোচনা) সৎ বিশ্বাসে নিজের মতামত প্রকাশ করেন, তবে তা মানহানি হবে না।

তবে এক্ষেত্রে প্রমাণ করতে হয়: এটি একটি মতামত, কোনো তথ্য নয়। মতামতটি জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে ছিল। এটি সত্য তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। যেকোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তি এই ধরনের মতামত দিতে পারেন।

আমাদের দেশে তারকাদের নিয়ে প্রায়ই আজগুবি সব লেখা দেখা যায়। এগুলো স্পষ্টত মানহানি। তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব “মানুষের আগ্রহ” হতে পারে, কিন্তু সাধারণত তা “জনস্বার্থ” নয়। আদালত জনস্বার্থের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করে।

সাংবাদিকদের জন্য আরেকটি বিপদ হলো ‘প্রমাণের ভার’। ঐতিহাসিকভাবে, মানহানি মামলায় সাধারণত বিবাদীকে (গণমাধ্যমকে) প্রমাণ করতে হয় যে তাদের বক্তব্য সত্য ছিল। এটি গণমাধ্যমের জন্য একটি বড় চাপ, কারণ অনেক সময় সংবাদের উৎস প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা প্রামাণ্য দলিল সংগ্রহ কঠিন হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2026 Coder Boss
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102