
লালমাইয়ের নাওড়া গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা ধর্ষণের অভিযোগ, মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় গত ১১ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই কিশোরী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগীর পিতা পেশায় একজন অটোচালক। তিনি দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের নাওড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশীর আত্মীয় মামুন (৪০) ও বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীর দিকে কু-নজর দিয়ে আসছিলেন এবং তাকে কু-প্রস্তাব দিতেন।
ভুক্তভোগীর পিতা মোঃ ইসমাইল জানান, গত ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জাহাঙ্গীর সরদারের বাগানে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত মামুন। কিশোরীর চিৎকার শুনে পরিবার ও স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এ সময় কিশোরীকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ইসমাইল আরও বলেন, “আমার মেয়েটি বর্তমানে হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে লড়ছে। আমি একজন সাধারণ অটোচালক। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি।”
এইদিকে গত ১১ই জানুয়ারি ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় গ্রাম সর্দার ভুক্তভোগীর পরিবারকে শালিসি বৈঠকে সমাধানের জন্য হুমকি ধমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।
এ ঘটনায় লালমাই থানায় মামুনসহ একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগপত্র হাতে পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।