
প্রেস ব্রিফিং-
আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলার সকল প্রার্থীদের সমন্বয়ে সাংবাদিক সম্মেলন।
বিষয়: ১ বক্স নীতি ভেস্তে যাওয়ার পেছনের বাস্তবতা, পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদ এবং কুমিল্লার ১১ টি আসনে নির্বাচনের ঘোষণা।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম-
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফেলে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ইসলামপন্থীদের শক্তি একীভূত করার লক্ষ্যে ১ বক্স পলিসি বাস্তবায়নে সমমনা ও দেশের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে মাঠে নামেন।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে,বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামী শক্তির ঐক্যই ছিল জাতির একমাত্র আশার জায়গা। সেই উপলব্ধি থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সাহেব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সবাইকে নিয়ে পথচলা শুরু করেন।
যাতে বিভক্ত ইসলামি ভোট একত্রিত হয়,
ইসলামপন্থীরা শক্ত অবস্থান নিতে পারে, ইসলামী রাজনীতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সবার সমন্বয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ সেই ১ বক্স নীতি বাস্তবায়নের বদলে ভেস্তে যাওয়ার পথে।
কেন ১ বক্স নীতি বাধাগ্রস্ত হলো?
এর প্রধান কারণ হলো ১ বক্স পলিসিতে সবশেষে যুক্ত হওয়া একসময় ইসলামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিতে বিশ্বাসী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের অতি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ও একচ্ছত্র আধিপত্যের মনোভাবই আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি।
দলটি যুগপৎ আন্দোলন সহ বিভিন্ন কাজ একসাথে ও আগ্রহের সাথে করলেও আসন সমঝোতার আলাপ আসলেই ভিন্ন চেহারা প্রদর্শন করতে শুরু করে।
সমঝোতার নামে একতরফা শর্ত চাপানো, আসন বণ্টনে নিজেদের দলীয় প্রাপ্তিকেই অধিক প্রাধান্য দেয়া,
ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলোকে সমমর্যাদার শরিক না ভেবে অধস্তন হিসেবে দেখার চেষ্টা করা যা ঐক্যের পরিপন্থী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে বিগত দিনে যা যা ঘটেছে –
▪️ বৈঠকের সময় নিয়ে টালবাহানা
▪️ সিদ্ধান্তের টেবিলে উপেক্ষা
▪️ নামমাত্র কয়েকটি আসন—তাও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো
▪️ মিডিয়ায় পরিকল্পিত অপপ্রচার
▪️ এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সাথে গোপন আঁতাত
▪️ বিএনপির সাথে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা
▪️ এমনকি ভারতের সাথে গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেল
★ এনসিপির মাধ্যমে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের গুঞ্জন সহ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত বিষয় সামনে আসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং আজকের এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গত কয়েক দিনে একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তন্মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করছি-
১) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫০, ২০০ আসন চায় টাইপের কথা বারবার সামনে আনা হয়েছে। অথচ এমন কিছুই ঘটেনি। হ্যাঁ, দেশব্যাপী জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য ১৪৩ টি আসনকে A গ্রেডের উল্লেখ করে আলোচনার টেবিলে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এখানে আলোচনা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এমন গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মিডিয়ায় চলে আসলো!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এটাকে ওই টেবিলে থাকা লোকদের চক্রান্ত হিসেবেই দেখছে। পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এর স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিল হিসেবে কাজ করছে।
যেমন-
২) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ ও খাটো করে দেখানোর মানসে বারবার “কৃত্রিম জরিপ” ছড়ানো হয়। যেখানে ইসলামী আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃতভাবে নগণ্য দেখানো হয়েছে। অথচ জরিপের কোনো পদ্ধতি, নমুনা বা গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করা হয়নি।
৩) শরিকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থকরা আরেকটি ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে যে “ জিততে পারে না” ন্যারেটিভ ছড়ানো
– উদ্দেশ্য: কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।বাস্তবতা: ইসলামী আন্দোলন বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছে।
৪) এনসিপি অতিরঞ্জিতভাবে শক্তিশালী দেখানো-
– যাতে ইসলামী আন্দোলনের আসন দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়
– যা বাস্তব ভোটের হিসাবের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক
সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় অপপ্রচার
৫) ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণের চেষ্টা-
আসন সমঝোতার আলাপ আসার পরপরই শুরু হল ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা। ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল অবলম্বন করা হল।
এই সবকিছু মিলিয়ে এটি স্পষ্ট—
এগুলো রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিকে ‘নাই’ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।
আজ কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—
১) যদি সবাই একসাথে জিতবে, তবে কেন শরিকদের দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা?
২) যদি সমঝোতা আন্তরিক হয়, তবে কেন ভেতরে ভেতরে ভিন্ন ন্যারেটিভ?
৩) ইসলামী আন্দোলন যদি জিততেই না পারে, তবে তাদের ভয় কেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জামায়াতকে দিতেই হবে।
ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়—
আমরা ঐক্যের পক্ষে,
আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সম্মানজনক সমঝোতার পক্ষে,
আমরা ইসলামী রাজনীতিকে একক মালিকানায় পরিণত করার বিপক্ষে,
ইসলামী আন্দোলন কারও করুণা বা দয়ার রাজনীতি করে না। আমাদের রাজনীতি ইসলাম,দেশ ও মানবতার কল্যাণে। আগেও ছিল আগামীতেও থাকবে,ইনশাআল্লাহ।
আমাদের আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে আসায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক মুবারকবাদ জানাই। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের পাশে সবসময়ই থাকবেন,ধন্যবাদ।
উপস্থিত ছিলেন
কুমিল্লা ০১ – মাওলানা বশির আহমাদ
কুমিল্লা ০২- ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম
কুমিল্লা ০৩- মাওলানা মোঃ আব্দুল কাইয়ুম
কুমিল্লা ০৪- আলহাজ্ব আব্দুল করিম
কুমিল্লা ০৫- মাওলানা রাশেদুল ইসলাম রহমতপুরী
কুমিল্লা ০৬- এডভোকেট মোঃ হারুনুর রশিদ
কুমিল্লা ০৭- মুফতি এহতেশামুল হক কাসেমী
কুমিল্লা ০৮- মুফতি গোলাম সাদেক
কুমিল্লা ০৯- আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদ
কুমিল্লা ১০- মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী
কুমিল্লা ১১- মহিউদ্দিন শহীদ পাটোয়ারী